সেলুন থেকে খালি গায়ে পালানোর চেষ্টা, গুলি ও চাপাতির আঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় সেলুনে চুল কাটানোর সময় ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গুলি ও চাপাতি দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ সেলুনে চুল কাটাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। পরে তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলার পর প্রাণ বাঁচাতে ফরহাদ লুঙ্গি পরিহিত ও খালি গায়ে সেলুন থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি ধরে ফেললে তিনি আর পালাতে পারেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা গুরুতর আহত ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরহাদ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত-আটজন কিশোর তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করত।
স্বজনদের দাবি, ব্যবসা চালিয়ে যেতে ফরহাদের কাছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদাভাবে টাকা দাবি করা হয়েছিল। ফরহাদ এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, ওই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে ফরহাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় গুলিবিদ্ধ ও চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।