ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
সভাপতি হিসেবে পরিপত্র পরিপন্থী ব্যক্তির নামে প্রস্তাব প্রেরণ
স্টাফ রিপোর্টার
সরকারি পরিপত্র লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হিসেবে ঢাকার অতিরিক্ত জজ মোহাম্মদ আবদুল হালিমের নাম প্রস্তাব করে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে। গত ২৪ মে সভ্যতার আলো পত্রিকায় “বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্কঃ পরিপত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে এক জজকে ঘিরে সমালোচনা ” সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর প্রায় একমাস প্রস্তাবপত্র জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো বন্ধ থাকে। কিন্তু হঠাৎ উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসক বরাবর অভিন্ন প্রস্তাবপত্র পাঠিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র লঙ্ঘন করে পেশা গোপন রেখে বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার চেষ্টা এবং এ লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আগের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হোসেন খসরুর বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য গত ৫ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে সভাপতির জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে পাঠান প্রধান শিক্ষক। ওই তালিকায় ক্রমানুসারে ছিলেন মো. রুবেল ঢালী, শেখ মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন মামুন ও পূজা রাজবংশী।
তবে ১৬ দিন পর গত ২১ মে আগের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নতুন তালিকা পাঠানো হয়। নতুন তালিকায় প্রথমেই রাখা হয় অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুল হালিমের নাম। এছাড়া তালিকায় ছিলেন মো. রেজাউল করিম ও মো. মেহেদী হাসান। অভিযোগ রয়েছে, নতুন তালিকা পাঠানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দেওয়া হয়।
এদিকে প্রস্তাবপত্রে বিচারক আবদুল হালিম নিজেকে শিক্ষানুরাগী হিসেবে উল্লেখ করলেও তাঁর বর্তমান পেশা ও কর্মস্থলের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ তিনি ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে কর্মরত একজন বিচারক এবং কর্মসূত্রে ঢাকাতেই অবস্থান করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ জারি করা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা, ২০২৪ অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলার সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ বা স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নাম প্রস্তাব করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আবদুল হালিম অন্য জেলায় কর্মরত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি ড. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠনে যে অস্বচ্ছতা দেখানো হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেছিলেন, যেহেতু অভিযোগ এসেছে, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তদন্ত সাপেক্ষে জেলায় পাঠানো হবে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র পরিপন্থী প্রস্তাব কিভাবে পাঠানো হলো এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।